ফেসবুক বর্তমানে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে অনেক সময় অজান্তেই এর ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা, কাজ কিংবা ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। একে ‘সমস্যাজনক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার’ (Problematic Social Media Use) বলে উল্লেখ করা যেতে পারে।
সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা
ফেসবুক পাঁচ মিনিট দেখার উদ্দেশ্যে ঢুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া এবং বারবার সময় কমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া আসক্তির অন্যতম লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঘন ঘন ফেসবুক চেক করার তাড়না
কোনো নোটিফিকেশন না থাকলেও বারবার ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক খুলে দেখা বা অবসর পেলেই নিউজফিড স্ক্রল করার প্রবণতা সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়া
রাতে দেরি পর্যন্ত ফেসবুক ব্যবহার, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ কমে যাওয়া—এসবও অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলে অস্থির লাগা
ইন্টারনেট না থাকলে বা ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলে বিরক্তি, অস্থিরতা বা উদ্বেগ অনুভব করা অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতার সংকেত হতে পারে।
বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও দায়িত্ব অবহেলা করা
পরিবার, বন্ধু বা প্রয়োজনীয় কাজের চেয়ে ফেসবুককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং এর কারণে সম্পর্ক বা দায়িত্বে সমস্যা তৈরি হওয়াও উদ্বেগের বিষয়।
মন খারাপ হলে ফেসবুককে আশ্রয় বানানো
দুশ্চিন্তা, একাকিত্ব বা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সব সময় ফেসবুকের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
ফেসবুক ব্যবহার নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন এটি ঘুম, কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।