ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে শেহবাজ শরীফ বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনাকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা উচিত। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে শেহবাজ শরীফের ভাষায়, “যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো সমাধানে পূর্ণ চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি—যেমন অসলো, জেনেভা বা গুড ফ্রাইডে চুক্তি—বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সে প্রেক্ষাপটে চলমান প্রক্রিয়াটিও সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ইসলামাবাদে আলোচনার সময় ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক করেছে এবং এটি ছিল প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের সরাসরি মুখোমুখি সংলাপ। দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিরলস কাজ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকার জন্য উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন শেহবাজ শরীফ। তার মতে, তাদের প্রচেষ্টার ফলেই অন্তত দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও পাকিস্তানের এ উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতা, এমনকি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তাকে ফোন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা জানানো হয়েছে।
শেহবাজ শরীফ বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই টেবিলে বসানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ ঘটনাকে তিনি পাকিস্তানের জনগণের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন।