লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর স্থগিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনা বা শান্তি প্রস্তাবের বিপক্ষে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার, কারণ বর্তমান মেরুকরণ অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সহিংসতায় ক্লান্ত হলেও, অন্য একটি অংশ ইসরায়েলের সাথে যেকোনো ধরনের আপসের ঘোর বিরোধী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হিজবুল্লাহ এবং আমাল আন্দোলন তাদের সমর্থকদের রাস্তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, লেবাননের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘাত তৈরি হলে ইসরায়েল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করতে পারে।
এদিকে সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে কৌশলগত ও আবেগীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বিন্ত জবেইল’ শহরকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে এবং হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। ২০০৬ সালের যুদ্ধে অপরাজিত থাকা এই শহরটিকে হিজবুল্লাহ ‘প্রতিরোধের রাজধানী’ হিসেবে গণ্য করে। তবে বর্তমান অভিযানে ইসরায়েলি ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী শহরের উপকণ্ঠ ছাড়িয়ে কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। বৈরুত তুলনামূলক শান্ত থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
(সূত্র: আল-জাজিরা)