লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। সম্ভাব্য আলোচনার আগে দেওয়া এই বার্তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতার বিষয়গুলো ছিল, তার মধ্যে দুটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমত লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রস্তাবিত আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে গালিবাফের। তবে তার সাম্প্রতিক এই মন্তব্য আলোচনার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছিল, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তেহরানের।
অন্যদিকে, আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তার নেতৃত্বেই মার্কিন প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেবে বলে জানা গেছে। সঙ্গে থাকবেন সাবেক প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার আশাবাদী। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্ত আরোপের ফলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সংলাপ বিলম্বিত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।