এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যা প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাত্র সাত দিনে ৮৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের প্রথম সাত দিনে প্রাপ্ত এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এবারে প্রায় ১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে গত বছরের মার্চ মাসে, যখন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেশে পাঠানো হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসেও সেই ধারা অব্যাহত থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।