মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সামরিক বিকল্প বিবেচনার কারণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যুদ্ধ সমাপ্তির শর্ত হিসেবে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে চাপ দিতে। আলোচনায় সমাধান না এলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও তা দখলের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ না হলেও পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমঝোতা হতে পারে।
ট্রাম্পের অবস্থান বরাবরই কঠোর—ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত, বিশেষ করে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেনা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেরিন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে, যা প্রয়োজনে অস্ত্রমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক উপাদান প্রধানত ইসফাহান ও নাটাঞ্জের স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত।
তবে এই ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এতে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাইন অপসারণ এবং বিশেষ ব্যবস্থায় পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়ার মতো কঠিন ধাপ রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েকদিন থেকে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন অভিযান ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও এ ইস্যুতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিছু নীতিনির্ধারক কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও অন্যরা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট