আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Associated Press–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Israel Defense Forces (আইডিএফ) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করেছে যে ইরান ইসরাইলে নিক্ষেপ করা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেকেই ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। আইডিএফের মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হামলার ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
আইডিএফের সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের ওয়ারহেড লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছালে আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে কয়েক ডজন ছোট সাব-মিউনিশনে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক থাকে এবং এগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি ঘটাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন। যদিও ইসরাইলের বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও তারা সতর্ক করে জানিয়েছে যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য নয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও তার ভেতরে থাকা ছোট বিস্ফোরক অংশগুলো নিচে পড়ে আলাদা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আইডিএফের Home Front Command–এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং বেসামরিক অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত সোমবার মধ্য ইসরাইলের একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং আশপাশের কয়েকটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
সামরিক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে বড় পরিসরে একযোগে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ না করে তুলনামূলক কমসংখ্যক কিন্তু শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে সীমিত হামলার মধ্যেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।