পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় কংগ্রেসের অভিশংসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত হয়েছেন। অফিশিয়াল শিডিউলের বাইরে চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং নৈতিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কংগ্রেসে ভোটাভুটিতে তার অপসারণ নিশ্চিত হয়।
গত বছরের অক্টোবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে অভিশংসিত হলে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন হোসে জেরি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক শুরু হয়। ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন—যা পেরুর দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিটি স্থানীয়ভাবে ‘চিফা-গেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে অনানুষ্ঠানিক পোশাকে এক চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীর রেস্টুরেন্টে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন জেরি। ওই ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াং একটি বড় জ্বালানি প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছিলেন এবং সরকারি নজরদারির আওতায় ছিলেন বলে জানা যায়। আরও অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকগুলোর একটিতে এমন একজন চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন যিনি অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগে গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন।
পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতিটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নথিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব বৈঠকের কোনো রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলা হয়।
এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নারীর নামে সরকারি চুক্তি বরাদ্দের অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে। যদিও জেরি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছিলেন, তবুও কংগ্রেসে ৭৫-২৪ ভোটে তাকে অপসারণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেরুতে গত এক দশকে ঘনঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ও দুর্নীতির অভিযোগ গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। জেরি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।
আগামী এপ্রিলে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রত্যাশায় রয়েছে জনগণ। এরই মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কংগ্রেস প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বারবার অভিশংসন ও রাজনৈতিক সংকট পেরুর শাসনব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সূত্র: BBC।
ডেস্ক রিপোর্ট