মিয়ানমারের একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূ-ফল্টে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একই ফল্টে সাম্প্রতিক বছরেও বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আফটারশক হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে, মিয়ানমারে। এ ভূমিকম্পটি যে ফল্ট লাইনে সংঘটিত হয়েছে, সেটিতে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ফল্টটি অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আফটারশক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র কক্সবাজার শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে হওয়ায় বাংলাদেশে কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে।
প্রথম ভূমিকম্পের মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে একই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫১ মিনিটে সংঘটিত দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ইয়েনানগিয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৮ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থলও এই এলাকার খুব কাছাকাছি ছিল, যা একই ফল্ট লাইনে ধারাবাহিক সিসমিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে একই দিনে ভোরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও একটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-কম্পনপ্রবণ অঞ্চলে সিসমিক চাপ সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আফটারশক ও ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট