ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটলে দেশটির হাল কে ধরবেন—এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা বিকল্প নেতৃত্ব নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেহরানের বর্তমান কাঠামো ভেঙে পড়লে তৈরি হওয়া ক্ষমতার শূন্যতায় প্রাথমিকভাবে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসি-র অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিন্যাস নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক কংগ্রেসনাল শুনানিতে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের পরিস্থিতি অন্য দেশগুলোর মতো সহজ নয়। ভেনেজুয়েলার মতো সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, বর্তমান শাসনের বিকল্প হিসেবে যারা উঠে আসতে পারে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি সমস্যার কারণ হতে পারে। এমন এক সময়ে এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছেন এবং সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের চূড়ান্ত সময়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে বিরোধী পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারত। এখন প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প সেই ‘মোক্ষম সুযোগ’টি হারিয়েছেন কি না। বর্তমানে ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি আধিপত্য এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে খামেনি-পরবর্তী যুগে ইরানে কোনো আস্থার যোগ্য মিত্র খুঁজে না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট