ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত ‘ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও স্বচ্ছতাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। দেড় বছর পার হলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকা এবং নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে ‘টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন’ বা কারিগরি মূল্যায়ন শেষ করার তোড়জোড় নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ প্রকল্পে স্বার্থের সংঘাত ও ভুয়া সনদের বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মোমিনুর রশীদ, যিনি একই সঙ্গে বিতর্কিত ও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ ‘EDLRMS’ (ভূমি অটোমেশন) প্রকল্পেরও পরিচালক। একই ব্যক্তির উভয় প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া প্রকল্প নথিতে ক্যাডাস্ট্রাল জরিপে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত থাকার কথা থাকলেও টেন্ডারের বিভিন্ন ধাপে কৌশলে তাদের যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রকল্পের নীতিগত সামঞ্জস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ড্রোনের পাইলট লাইসেন্স ও সনদ যাচাই নিয়ে। ২০২০ সালের ড্রোন নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স অবশ্যই বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) বা আইকাও (ICAO) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ড্রোন ইনস্টিটিউট’-এর মতো বেসরকারি সংস্থার সনদ এবং অস্পষ্ট বাংলা ভাষায় লেখা অননুমোদিত সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া বা অবৈধ সনদের মাধ্যমে ড্রোন উড্ডয়ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পাশাপাশি, ‘লিড ফার্ম’ বা প্রধান প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপে সরাসরি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগ (JV) গঠন করে প্রধান অংশীদার হিসেবে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। অভিজ্ঞতাহীন প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিলে তথ্যগত ভুল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি আধুনিক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ড্রোন লাইসেন্সসহ সকল কারিগরি মানদণ্ড কঠোরভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট