আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ কেন্দ্রিক গণভোট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে অভূতপূর্ব আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৩৯৪ জন পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এবারের পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার এবং ২৪০ জন বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধি। এছাড়া ৫১ জন বিশেষজ্ঞ স্বতন্ত্রভাবে নিজস্ব সক্ষমতায় এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। পর্যবেক্ষক পাঠানো প্রধান সংস্থাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইআরআই (IRI), এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL), কমনওয়েলথ এবং ওআইসি (OIC) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, জাপান এবং রাশিয়াসহ মোট ২১টি দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমানে মাঠে রয়েছেন।
এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ এই ব্যাপক সাড়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্ববাসীর ইতিবাচক সমর্থন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, উচ্চপ্রোফাইল এই প্রতিনিধি দলের মধ্যে ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আদ্দো দানকওয়া আকুফো-আদ্দো এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি নির্বাচনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্বস্তিদায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও ২ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট আয়োজিত হওয়ায় এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট