গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ ও গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুনের মধ্যে ৮ হাজার সেনার একটি বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডনি প্রামোয়ো জানান, সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে একটি অগ্রবর্তী দল হিসেবে প্রায় ১ হাজার সেনাকে আগামী এপ্রিলের মধ্যেই গাজায় মোতায়েন করা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) পরিকল্পনার প্রথম জোরালো সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সামরিক বাহিনী (TNI) ইতিমধ্যে তাদের সেনাকাঠামো এবং সম্ভাব্য সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে। বর্তমানে সেনাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই মিশনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়।
তবে এই মিশনের প্রকৃতি নিয়ে বিশেষ স্পষ্টীকরণ দিয়েছে জাকার্তা। ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মিশনটি হবে সম্পূর্ণ মানবিক এবং অ-যুদ্ধকালীন (Non-combat) কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে। এর মূল লক্ষ্য হবে গাজার বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করা। ইন্দোনেশীয় সেনারা কোনো ধরনের সরাসরি সশস্ত্র সংঘাত বা হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের মতো অভিযানে অংশ নেবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সাথে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার এই অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের টেকসই সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
(সূত্র: পলিটিকো)
ডেস্ক রিপোর্ট