রমাদান মাসকে ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি সময় হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দুআর গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি। দুআ মূলত আল্লাহর কাছে বান্দার চাওয়া, আকুতি ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ। রমাদানে মানুষ গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা থাকে এবং ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হয়। দুআর প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রোজাদারের দুআ বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে ইফতারের আগমুহূর্তকে দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়।সারাদিনের রোজা শেষে একজন মানুষ যখন ইফতারের অপেক্ষায় থাকে, তখন তার হৃদয়ে বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার অনুভূতি বেশি থাকে। ইফতারের আগে সময়কে দুআ, দরুদ এবং ইস্তিগফারে ব্যয় করার তাগিদ দেওয়া হয় যেহেতু এটি দুআ কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলোর মধ্যে একটি।
রমাদানে দুআ শুধু ব্যক্তিগত চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নতি এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। দুআর মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে পারে, ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার তাওফিক চাইতে পারে এবং পরিবার-সমাজের কল্যাণ কামনা করতে পারে। নিয়মিত দুআ মানুষকে মানসিকভাবে দৃঢ় করে এবং বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণে সহায়তা করে।
রমাদানের শেষ দশককে দুআর জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাতগুলোতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও হেদায়াত চাওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কুরআন নাজিলের এই মাসে কুরআনের আলোকে নিজের জীবন গড়ার অঙ্গীকার এবং উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য দুআ করাকে অনেকেই বড় সুযোগ হিসেবে মনে করেন। ফলে রমাদানে দুআকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।