গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী সংঘাত মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় থানাগুলোতে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বড় ধরনের রক্তপাত ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হলেও পরবর্তী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট ও ময়মনসিংহে নিহতসহ অন্তত ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি সাড়ে তিনশ’র বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নাটোরের বড়াইগ্রাম ও ফরিদপুরের সালথায় বড় ধরনের সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো অজুহাতে দুর্বলের ওপর অবিচার সহ্য করা হবে না। অন্যদিকে, হাতিয়ায় নারী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, শোনা যাওয়া মৃত্যুর খবরের মধ্যে কেবল একটি মৃত্যু সরাসরি নির্বাচনী সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট