ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে এবং ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাইলে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। একই সঙ্গে তারা বলছে, তাদের অগ্রাধিকার যুদ্ধ নয়; আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার এ অবস্থান জানান বলে আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান জনগণের মধ্যে ইরানের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি তৈরি হলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাবুল যুদ্ধ চায় না এবং কূটনৈতিক পথই সর্বোত্তম।
তালেবান মুখপাত্রের বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান সংযম দেখিয়েছে এবং চলমান পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত থাকায় এখনো সংঘাত এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য আঞ্চলিক কূটনীতিতে আফগানিস্তানের অবস্থানও তুলে ধরে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত নির্দেশ দিলে তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দেন।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে জেনেভায় মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ অংশ নেওয়ার কথা। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে না।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান ও সেনা রয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রস্তুতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং এর অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাবুল ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তালেবানের এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।