ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
গাজীপুর জেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, পাঁচটি আসনে বিজয়ী ও তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী—মোট ১০ জন ছাড়া অন্য সব প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসীমা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
গাজীপুর-১ আসনে (কালিয়াকৈর ও মহানগরের অংশ) মোট কাস্টিং ভোট পড়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৪৪টি। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান জয়ী হন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. শাহ আলম বকশী।
গাজীপুর-২ (সদর ও টঙ্গী) আসনে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৪ ভোটের মধ্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আলী নাছের খান।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদরের অংশ) আসনে ৩ লাখ ৩ হাজার ৯৭২ ভোট পড়ে। এখানে বিএনপির ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোহাম্মদ এহসানুল হক।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে মোট কাস্টিং ভোট ২ লাখ ৪ হাজার ৪৪টি। এ আসনে জামায়াতের সালাহ উদ্দিন জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান।
গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ ও সিটির অংশ) আসনে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২৯ ভোটের মধ্যে বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক মিলন বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের মো. খায়রুল হাসান।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বহু প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকলেও অধিকাংশই উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তের সংখ্যা বেশি হয়েছে। এটি নির্বাচনী প্রতিযোগিতার বাস্তব চিত্র ও ভোটারদের পছন্দের প্রতিফলন বলেও তারা মনে করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট