তারেক রহমানের ডাকা বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যেসব বিষয় আসতে পারে
দলীয় শৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত।
সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সভা আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার মতে, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এ সভা আয়োজনের পেছনে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগও গুরুত্ব পেতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা হিসেবে এসব পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার নিয়ে দলের অবস্থান নির্ধারণেও সংসদীয় দলের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলের প্রত্যাশা ও অসন্তোষ সামলানো এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে দলটিকে। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা, কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।