খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় শাসনের জল্পনা, শাহবাজ ও জারদারির বৈঠক
পিটিআইয়ের লংমার্চ ও কেন্দ্র প্রাদেশিক টানাপোড়েনের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ, আলোচনায় ফজলুর রহমান
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৫৪:২৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৫৪:২৭ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৭ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। শনিবার ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট ভবন আইওয়ান ই সদরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনা গুরুত্ব পায়। প্রদেশটিতে কেন্দ্রীয় শাসন জারির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। এতে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, অ্যাটর্নি জেনারেল মনসুর উসমান আওয়ান, আইন ও বিচারমন্ত্রী আজম নাজির তারার এবং সিনেটর শেরি রেহমানসহ সরকারের ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের পৃথক অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে একমত হন তাঁরা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ টেলিফোনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ফজলের (জেইউআই এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। ওমরাহ পালন করায় ফজলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান শাহবাজ এবং তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান। ফজলুর রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
জেইউআই এফের মুখপাত্র আসলাম গৌরি জানান, দুই নেতার আলোচনায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি উঠে আসে। তিনি আরও বলেন, ফজলুর রহমান পিটিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তাঁদের আস্থায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে রাষ্ট্রীয় রেডিও পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীর ও গিলগিট বালতিস্তানবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সল করিম কুন্ডি পেশোয়ারের গভর্নর হাউসে বৈঠক করেছেন। এতে প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পিটিআইয়ের লংমার্চ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, জনকল্যাণ ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে পিটিআইয়ের লংমার্চও অব্যাহত রয়েছে। ৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার চারসাদ্দা থেকে মারদানের দিকে যাওয়ার কথা ছিল মিছিলটির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বহরটি চারসাদ্দা ও মারদান হয়ে সোয়াবি পৌঁছাবে। সেখানে পৌঁছে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে দলটি।
এ পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখার সভাপতি জুনাইদ আকবর জানিয়েছেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব জেইউআই এফের প্রধান ফজলুর রহমানকে দিয়েছে দলটি। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খানও নিঃশর্ত আলোচনার আহ্বান জানিয়ে দুই পক্ষকে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার অনুরোধ করেছেন।
এর আগে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হলেও সমঝোতা হয়নি। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতি নির্ধারণে প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে। পিটিআই কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সমন্বয়ে যৌথ কৌশল চায়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক প্রশাসনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারি কিংবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে। প্রদেশের ১২টি জেলার জন্য পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনের একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শাসন জারির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।