রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র তেল চুক্তিতে জিতল দুই পক্ষই?
জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য ওয়াশিংটনের, আর রপ্তানি আয়ের সুযোগ মস্কোর; তবে চুক্তির বাস্তব প্রভাব নিয়ে সংশয় বিশ্লেষকদের।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৩৬:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৯:৩৬:১০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের তীব্রতা হ্রাসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ধরনের জ্বালানি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন ও বৈশ্বিক বাজারে রুশ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এতে বর্তমানের অস্থির জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্প্রতি প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এক টেলিফোনালাপের পরই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। ফোনালাপের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বর মাসে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত দশ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উভয়ের জন্যই একটি তাৎক্ষণিক ও বড় রাজনৈতিক বিজয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বর্তমান প্রশাসনের জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন এক সময়ে এই চুক্তি বাজারে আস্থার সংকট দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ডিজেলের মূল্য সরাসরি কৃষিকাজ, গৃহস্থালি গরম রাখার ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহন খাতের ব্যয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী নির্বাচন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক ধরণের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে এই চুক্তির খবর প্রকাশের পর পরই মার্কিন বাজারে ডিজেলের ভবিষ্যৎ মূল্য প্রায় পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি গ্যালন চার ডলার চৌষট্টি সেন্টে নেমে আসে।
এদিকে এই চুক্তির প্রেক্ষাপটে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকেও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত রুশ ডিজেলবাহী জাহাজের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে একটি বিশেষ ছাড়পত্র বা লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দুই নেতার ফোনালাপে ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়টিও প্রধানভাবে স্থান পায়। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সামনের সারির যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনীয় “সন্ত্রাসী হামলার” বিষয়ে মস্কোর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যার ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং মস্কো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।