আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই পদক্ষেপ
নাভি পিল্লাইয়ের শান্তিতে নোবেল জয়ের দিনেই ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
- আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ১০:২৬:২২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ১০:২৬:২২ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১২ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার ঘোষিত এ পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুর্বল করাই এর উদ্দেশ্য, তবে তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আদালতের কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের পদক্ষেপে আদালতকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আইসিসিকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি জানান, আদালতটির সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে, সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করা হবে এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া হবে। রুবিও আরও বলেন, আইসিসি ও রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে মার্কিন উদ্বেগ সমাধানের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল, কিন্তু তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি মিত্র দেশগুলোকেও আদালতটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান এবং উদ্যোগ সফল না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেন।
আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা। এছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির অতীত তদন্তেও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে, যদিও আদালত জানিয়েছে ওই তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্বের ১২৫টি দেশ আইসিসির সদস্য, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর অন্য সদস্যরা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এমন নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করতে বাধ্য হয়, ফলে ব্যাংক হিসাব বন্ধ, বিমা সেবা প্রত্যাহার ও সফটওয়্যার সরবরাহ বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে পরে জো বাইডেনের প্রশাসন তা প্রত্যাহার করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়। সরাসরি আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আইসিসি কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের বদলে উন্মুক্ত উৎসের বিকল্প ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলার চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব ঠেকাতে ব্লকিং মেকানিজম ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানান।
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে থাকার সময় এ পুরস্কারের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে তারা।
সূত্র রয়টার্স।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।