তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত
চলতি মাসেই বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৯:৫৯:২৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১০:০২:৫৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৫ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হতে পারে।
গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানিয়েছেন, মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাঁদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। নাম পাওয়ার পর মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। চলতি মাসেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান তিনি।
সরকার সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে এবং তা কার্যকর হয় একই বছরের ডিসেম্বরে। আগামী নভেম্বরে ওই মজুরিকাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হবে।
তবে নতুন মজুরি নির্ধারণের সময় গণনা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের মত, শ্রম আইন সংশোধনের পর থেকেই তিন বছরের সময় গণনা করা উচিত।
শ্রমসচিব জানিয়েছেন, বিষয়টি মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় তোলা হবে। সেখানেও সিদ্ধান্ত না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৩ সালে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এতে মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ে। একই সঙ্গে সাতটি গ্রেড কমিয়ে মজুরিকাঠামোতে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। তবে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা কারখানাগুলোর রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর দাবি, বর্তমান মজুরিকাঠামোতেই বহু কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়ানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।