ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাসযাত্রীর ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুজন হলেন মো. দুলাল হাওলাদার ও মো. তিলাম খান।
সোমবার ২৪ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে দুলাল হাওলাদারকে এবং মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট মাগুরা সদর এলাকা থেকে ৪৫ বছর বয়সী তিলাম খানকে গ্রেফতার করা হয়। দুলাল পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার কাজিরকান্দা গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিলাম মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন মুক্তা রানী ভৌমিক নামে ৩৫ বছর বয়সী এক নারী পরীক্ষা শেষে যশোর থেকে শাপলা পরিবহনের বাসে কোটচাঁদপুরের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কালীগঞ্জ কোটচাঁদপুর সড়কের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় বাসের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাবের পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তাকে খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠে।
অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার কাছে থাকা প্রায় তিন ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের হার, একটি আংটি ও এক জোড়া হাতের চুরি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
ঘটনার খবর পেয়ে বাদী ও স্থানীয়রা এলাঙ্গী বাজার এলাকায় বাসটি থামিয়ে দুইজনকে আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩২৮, ৩৭৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই অমিত কুমার সাহা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর একাধিক সোর্স নিয়োগ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পরে পুলিশ সুপার ঝিনাইদহের নির্দেশনায় ও কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আজাদ রহমানের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি মো. আজাদ রহমান জানান, মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।