বরিশাল নগরীতে নির্মিত স্থাপনাগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬’ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ না করা, নির্ধারিত জায়গা (সেটব্যাক) না রাখা এবং অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের মতো অনিয়মের কারণে নগরীতে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। এরই মধ্যে জর্ডান রোডে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নগর কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে নির্মাণকাজ শুরুর প্রমাণও মিলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, গত ছয় মাসে বরিশাল নগরীতে ১ হাজার ৪০০টি নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি বহুতল ভবন। তবে অনুমোদন পাওয়ার পর অনেক ভবন মালিকই নকশা ও নির্মাণবিধি অনুসরণ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনের ফ্লোর বাড়ানো এবং চারপাশে নির্ধারিত জায়গা না রাখার কারণে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে মৃদু ভূমিকম্পের সময় নগরীর বেলতলা, বাংলাবাজার ও সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্থপতি মো. সাইদুর রহমান লুসান বলেন, প্রথম তলার কাজ শেষ হওয়ার পর অনেক ভবন মালিক অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত ফ্লোর নির্মাণ করেন। পাশাপাশি ভবনের চারপাশে নির্ধারিত সেটব্যাকও রাখা হয় না। এতে ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বরিশালের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি সম্পর্কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হক ফরাজী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে। মাটির গঠন বিবেচনায় না নিয়ে এবং পাইলিংয়ে ত্রুটি রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশাল অফিসের সিনিয়র প্ল্যানার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা নগরকে অপরিকল্পিত কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করছে। অন্যদিকে বরিশাল নাগরিক সুশীল সমাজ কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, অবৈধ ভবন চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এদিকে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ ভবন মালিকদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। মানুষের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে বর্তমানে মোট হোল্ডিংয়ের সংখ্যা ৫৮ হাজার। এর মধ্যে ৪১ হাজার পাকা ভবন বা স্থাপনা। এসবের মধ্যে বহুতল ভবনের সংখ্যা আড়াই শতাধিক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
বরিশালে ৯৫% স্থাপনায় নির্মাণবিধি লঙ্ঘন, বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন
অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৬:১৩:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর