যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ ৪১টি দেশ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM), সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (SLBM) এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণযান (SLV) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বা প্রভাবিত দেশগুলোকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচালিত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ICBM, SLBM ও SLV উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাষ্ট্র অনুসরণ করে আসা আগাম নোটিশ ও সংঘাত এড়ানোর প্রচলিত ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে মানা হয়নি। এ ধরনের কার্যক্রম ভুল বোঝাবুঝি ও হিসাবের ভুল থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশগুলো।
যৌথ বিবৃতিতে বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পর্যাপ্ত আগাম তথ্য ছাড়া পরিচালনা করাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশগুলোর মতে, স্বচ্ছ ও নিয়মিত নোটিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো এবং আস্থা বাড়ানো সম্ভব।
প্রস্তাবিত নোটিশে ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশযান উৎক্ষেপণের সাধারণ শ্রেণি, সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ সময়, উৎক্ষেপণ এলাকা এবং সম্ভাব্য গতিপথের মতো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ধরনের আগাম নোটিশের ধারণা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন নয়। ১৯৮৮ সালের যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত ইউনিয়ন চুক্তিতে ICBM ও SLBM উৎক্ষেপণের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পরিকল্পিত উৎক্ষেপণের তারিখ, এলাকা ও সম্ভাব্য আঘাতের এলাকা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযান উৎক্ষেপণ নিয়ে আরও বিস্তৃত স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি চীনের একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে উদ্বেগ নতুন করে সামনে আসে। ৬ জুলাইয়ের ওই পরীক্ষাটি চীন নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করলেও ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের উদ্বেগ দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের আগাম নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে অন্য কোনো রাষ্ট্র ভুল করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে আগাম তথ্য বিনিময়কে সম্ভাব্য ভুল হিসাব ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়।