শনিবার (৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হিন্দু রক্ষা দলের উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মা এই ঘোষণা দেন।
হিন্দুত্ববাদী ললিত শর্মা জানান, সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিংকি চৌধুরীর নেতৃত্বে সদস্যরা হরিদ্বার থেকে 'গঙ্গা জল' নিয়ে দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
সংগঠনটির দাবি, দারুল উলুম দেওবন্দের আঙিনার নিচে একটি শিব মন্দির বা শিবলিঙ্গ বিদ্যমান। তবে এই দাবির কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা বা স্বাধীন প্রমাণ এখনো মেলেনি।
শর্মা দাবি করেন, তারা এর আগে সাহারানপুর প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
"প্রশাসন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা নিজেরাই সেখানে গিয়ে গঙ্গা জল অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি," বলেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা ধারাবাহিক বিতর্কের মধ্যেই এই নতুন ঘোষণার বিষয়টি সামনে এলো।
দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেওবন্দের সার্কেল অফিসার (সিও) অমিত কুমার সিং জানান, কাউকেই আইনশৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।
"কাউকেই শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবেশ ঘোলাটে করার কোনো চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন সিও অমিত কুমার সিং।
হিন্দুত্ববাদীদের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মাদরাসার আশপাশের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় অবস্থিত। এর আগেও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁওয়াড় যাত্রীদের ব্যবহৃত পথ এড়িয়ে চলার জন্য নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
হিন্দু রক্ষা দলের এই সফর ঘিরে এলাকায় থমথমে ভাব ও সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, দারুল উলুম দেওবন্দের নিচে শিবলিঙ্গ থাকার অভিযোগটি কেবলই হিন্দু রক্ষা দলের একটি দাবি; এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সরকারি তদন্তে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট