শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সিভিল ডিফেন্স জানায়, পশ্চিম গাজার ‘কারাম’ ভবনে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। টানা চার দিন তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানের তদারককারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এখন গাজার অন্যান্য এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করবেন।
সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের হাতে পরিচালিত সরঞ্জাম ও কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উদ্ধার কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার গাজা সিটিতে আবু শারিয়া ও আল হুসাইনা পরিবারের ১১২ জনের মরদেহ গণদাফন করা হয়। মরদেহগুলো সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়েছিল বলে জানানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় ধসে পড়া কংক্রিট সরাতে উদ্ধারকারীদের অতিরিক্ত কায়িক শ্রম দিতে হচ্ছে।
চলমান মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রমটি সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অংশ। গত ১৯ জুলাই শুরু হওয়া এই ধাপে গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনে ৮০০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ১ হাজার ৭২টি মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, সীমিত সম্পদ নিয়েই উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে একটি খননযন্ত্র, একটি বুলডোজার ও একটি ট্রাক রয়েছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবন থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে সরঞ্জামের সংকটে আরও প্রায় ২২৬টি মরদেহ তখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে মরদেহ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল তা বাস্তবায়ন করেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উপত্যকায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি।
ডেস্ক রিপোর্ট