হাতিয়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশ, উঠছে আইনি প্রশ্ন
৫০ বেত্রাঘাত ও জরিমানার ভিডিও ভাইরাল, থানায় এখনো হয়নি কোনো অভিযোগ
- আপলোড সময় : ০৬-০৮-২০২৬ ০২:০৯:৪৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-০৮-২০২৬ ০২:০৯:৪৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৯ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার ৫ আগস্ট সকালে সালিশের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগের দিন মঙ্গলবার ৪ আগস্ট বিকেলে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকালে পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে ফেরার পথে শিশুটিকে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন দোকানে ডাকেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির ছোট বোনকে বাইরে রেখে তাকে দোকানের পেছনে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাটি জানতে পারেন।
পরে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই শাস্তি আদালতের নয়, বরং স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তিনি আগে ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন। তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের সদস্য বা দায়িত্বশীল কোনো কর্মী নন।
হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, হরণী ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক সময় ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আসে না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।