সোমবার (১৩ জুলাই) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণেশ নেপালি নামের ওই তরুণ রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় মহানগর পুলিশের সদস্যরা এসে তার মোটরসাইকেলের চাকায় হঠাৎ ‘হুইল লক’ লাগিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রতিবাদে গণেশ নেপালি নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর থেকেই সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে সামনে আসে।
রোববার কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘গরিবদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
বিক্ষোভকারীরা অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ, উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন এবং মহানগর পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধের দাবিও জানান।
২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বালেন শাহর প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং বস্তি সরানোর মতো অভিযান জোরদার করে। এসব উচ্ছেদ অভিযানের সময় বহুবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশ প্রতিনিয়ত ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
আইনজীবী রাজু চাপাগাই বলেন, ‘আইন অনুযায়ী মহানগর পুলিশকে বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের মূল দায়িত্ব হলো প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা এবং জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যানজট বা সড়ক দখলের মতো বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নেওয়ার কথা। কিন্তু মহানগর পুলিশের সদস্যদের হকারদের ধাওয়া করা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ করা এবং নাগরিকদের মারধর করতে দেখা গেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’
উল্লেখ্য, নেপালের সংবিধান স্থানীয় সরকারকে পৌর পুলিশ গঠনের ক্ষমতা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী বালেন শাহর মেয়াদকালে ২০২৩ সালে ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপাল পুলিশ আইন’ পাস হয়।
তবে ওই আইনে মহানগর পুলিশকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার বা জনগন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পৌর সম্পত্তি রক্ষা, পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং স্থানীয় উৎসব-অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।
নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র জোশি বলেন, ‘মহানগর পুলিশ কেবল সহায়ক বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বা বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হলে নেপাল পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে। মহানগর পুলিশ নিজেরা জনগন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’
তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বালেন শাহর প্রশাসনের অধীনে মহানগর পুলিশ নিয়মিত দিনমজুর ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানের বহু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট