মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগে যে আলোচনা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় মূলত কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল এবং সেগুলো পরদিন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তিনি জানান, দোহায় কোনো বৈঠক হবে না—তেহরানের এমন বক্তব্য তাকে হতাশ করেছে। তার ভাষ্য, ইরানের কর্মকর্তারা কারিগরি আলোচনা চলার বিষয়টি স্বীকার করলেও শান্তি আলোচনা হচ্ছে—এমন দাবি অস্বীকার করছেন।
ভ্যান্স বলেন, ইরান বলছে, ‘কোনো শান্তি আলোচনা চলছে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা চলছে।’ তার মতে, এটি ‘পারস্যের দর-কষাকষির কৌশল’ এবং এমন বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষা তিনি বুঝতে পারেন না।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বক্তব্যের চেয়ে তাদের কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতি অর্জনের জন্য তেহরানকে বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছু ইতিবাচক লক্ষণ যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক ইঙ্গিতও রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তা দেখবে। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলেও ওয়াশিংটনের হাতে আরও অনেক বিকল্প রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান কাতারের রাজধানী দোহায় একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা। এরপর হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার দোহা সফর করেন।
যদিও ইরানের প্রতিনিধিরাও দোহায় গেছেন, তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সেখানে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বুধবার দোহায় যে আলোচনা হবে, তা সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই। এর মধ্যে কাতারের কাছে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি-সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংলাপ এগিয়ে নিতে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল-থানি এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট