ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ

গোলান হাইটসে বসতি সম্প্রসারণে ইসরাইলের নতুন পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক আইনে ‘যুদ্ধাপরাধ’ অভিযোগ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ০৮:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ০৮:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৫৭ বার পঠিত
গোলান হাইটসে বসতি সম্প্রসারণে ইসরাইলের নতুন পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক আইনে ‘যুদ্ধাপরাধ’ অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার অধিকৃত গোলান হাইটসে ইসরাইল নতুন করে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রায় ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার। পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধে অর্থায়নের শামিল বলে আখ্যা দিয়েছে।
 

মিডল ইস্ট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল ইসরাইলি মন্ত্রিসভা এই প্রকল্প অনুমোদন করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গোলান হাইটসে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বিদ্যমান ‘কাতজরিন’ বসতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শহরে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটির জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের কৌশল হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
 

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, দখলকৃত এলাকায় নিজ দেশের নাগরিকদের স্থানান্তর আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তাদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেবে।
 

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, বিশেষ করে ফোর্থ জেনেভা কনভেনশনের ৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দখলদার রাষ্ট্র তার নিজস্ব জনগণকে দখলকৃত অঞ্চলে স্থানান্তর করতে পারে না। এই বিধান লঙ্ঘনকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ইসরাইল ১৯৬৭ সালে গোলান হাইটস দখল করে এবং ১৯৮১ সালে সেখানে নিজস্ব আইন প্রয়োগ করে, যা কার্যত সংযুক্তিকরণের সমতুল্য। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং অঞ্চলটিকে এখনো দখলকৃত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
 

এদিকে, বাস্তুচ্যুতি ইস্যুও এই সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে যেমন ফিলিস্তিনিদের নিজভূমিতে ফিরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তেমনি গোলান হাইটসের বহু সিরিয়ান বাসিন্দাকেও ফিরতে দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শত শত গ্রাম ও কৃষিজমি ধ্বংস হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে।
 

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই বসতি সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, সম্পদ ধ্বংস এবং এমন সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, গোলান হাইটসে এই পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতার অংশ, যেখানে দখলকৃত অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা চলছে। একই ধরনের কার্যক্রম পশ্চিম তীর এবং দক্ষিণ লেবাননেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে সামরিক অভিযান ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাড়ছে।
 

এই প্রেক্ষাপটে এইচআরডব্লিউ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা, অবৈধ বসতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্য বন্ধ এবং অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার জন্য। পাশাপাশি, সংস্থাটি বিভিন্ন দেশে সার্বজনীন আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর কথাও বলেছে। এছাড়া বসতি নির্মাণে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।