ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেসকভ বলেন, মার্কিন অবরোধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন। একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বৃহত্তর কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম গ্রহণের বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গৃহীত হয়নি, তবে ভবিষ্যতেও সহায়তা দিতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মার্কিন সেনা, জাহাজ ও বিমান চলাচল সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন কৌশল ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী নৌযান নিয়ন্ত্রণে অবরোধ কার্যকর করেছে। নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে অবরোধ অমান্য করলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর পূর্বাংশে আরব সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই অবরোধ প্রযোজ্য হতে পারে এবং তা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজ আটক, পথ পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে নিরপেক্ষ গন্তব্যে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো যুদ্ধজাহাজকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল বলে সতর্ক করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই অবরোধ নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট