বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা, শিগগিরই সহজ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে।
বৈঠকে দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।
এ সময় একটি আলোচিত হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে এস. জয়শঙ্কর তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি আরও জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের ভারত সফর। সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দিল্লি সফর শেষে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একসঙ্গে মরিশাসে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তারা ৯তম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নেবেন।