ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে সেতু, রেললাইন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আঘাত হানার তথ্য উঠে এসেছে, যার ফলে হতাহত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আগেই ইরানের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রেলপথ ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দেয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান, কারাজ, তাবরিজ, কাশান ও কোমসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি সেতুতে হামলার খবর জানায় আইডিএফ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিতভাবে এসব হামলা চালিয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, কাশান শহরের একটি রেল সেতুতে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কারাজে একটি রেললাইনে বিমান হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে এবং আহত একজনকে চিকিৎসা দেওয়ার দৃশ্য প্রকাশ করে।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, কোম প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে স্থল পরিবহন সেতুগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া খুজেস্তানের আহভাজ শহরের একটি সড়কেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
হামলার প্রভাব হিসেবে তাবরিজ ও জানজানের মধ্যবর্তী একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কুরেহ চামান–মিয়ানে সড়ক উভয় দিক থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতির ইঙ্গিত দেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার আগে ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
সামগ্রিকভাবে, সাম্প্রতিক এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও সামরিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট