মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে তিনটি অপরিশোধিত তেলের চালান আটকে থাকায় দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। এতে সাময়িকভাবে শোধনাগারটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে কোনো তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে মার্চের শেষে ইস্টার্ন রিফাইনারির মজুত নেমে এসেছে মাত্র ৩০ হাজার মেট্রিক টনে, যা দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় এক সপ্তাহের বেশি কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি ভিন্ন রুট ব্যবহার করে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদিও এই পদ্ধতিতে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মুনীর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, কাঁচামাল সরবরাহে ১০ থেকে ১২ দিনের একটি গ্যাপ তৈরি হতে পারে। গভীর সমুদ্র থেকে তেল খালাস করে শোধনাগারে পৌঁছাতে সময় লাগার কারণেই এই বিলম্ব হবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ, দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “ইস্টার্ন রিফাইনারি মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে নির্ভরশীল হওয়া ঠিক নয়। ভবিষ্যতে জ্বালানির উৎস বহুমুখী করা জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই সংকট মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ আটকে, কাঁচামাল সংকটে বন্ধের শঙ্কায় ইস্টার্ন রিফাইনারি
- আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ০৯:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ০৯:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট