মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। শনিবার (৭ মার্চ) ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি ইরান ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এরদোগান বলেন, “ইরান নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে এবং আঙ্কারা একটি টেকসই সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।” তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও রয়টার্স এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ফোনালাপে এরদোগান স্টারমারকে জানান, ইরানকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক হামলা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি তুরস্ক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি বা প্রলম্বিত সামরিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তির জন্য শুধু হুমকই নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।” এরদোগান স্পষ্ট করেন যে, আঙ্কারার শান্তি-কেন্দ্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তারা সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চায়।
বৈঠকের পর ডাউনিং স্ট্রিট ও আঙ্কারার দেওয়া বিবৃতিতে কিছুটা ভিন্ন সুর লক্ষ্য করা গেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ন্যাটো মিত্র হিসেবে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, এরদোগান নিন্দা জানানোর চেয়ে ‘সংলাপ প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বিশৃঙ্খলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা হামলার ফল হিসেবে দেখছেন এবং এর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে কূটনৈতিক উদ্যোগকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত প্রতিবেশী হিসেবে তুরস্ক বর্তমানে এক কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখছে। এরদোগান এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে সফল হয়েছিলেন। এবারও তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতার সেতু তৈরি করতে চান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইতিমধ্যে কাতার, ওমান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছেন যাতে পবিত্র রমজান মাসেই একটি যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটা সম্ভব হয়।
(সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স)
ডেস্ক রিপোর্ট