বুধবার গভীর রাতে ছয়জন সশস্ত্র জলদস্যু ‘অনার ২৫’ নামের জাহাজটি ছিনতাই করে। সে সময় জাহাজটি উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।
একসময় ভারত মহাসাগরের এই অঞ্চল জলদস্যুতার জন্য কুখ্যাত ছিল। তবে প্রায় তিন বছর আগে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সম্প্রতি আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। এবার তারা মাছ ধরার ট্রলার বা কনটেইনার জাহাজের পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাংকারকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
ছিনতাই হওয়া জাহাজটি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর উদ্দেশে যাচ্ছিল। এতে ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল ছিল বলে সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই মোগাদিসুতে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানির দাম তিনগুণ বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন পাকিস্তানি, চারজন ইন্দোনেশীয় এবং একজন করে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের নাগরিক।
জাহাজটি ২০ ফেব্রুয়ারি সোমালিল্যান্ডের বন্দর বারবেরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে কিছু সময় ঘোরাফেরা করার পর ২ এপ্রিল দিক পরিবর্তন করে মোগাদিসুর দিকে রওনা হয়।
বর্তমানে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূলবর্তী মাছ ধরার শহর জাফুন ও বান্দার বেইলার মাঝামাঝি এলাকায় নোঙর করে আছে। পরবর্তীতে আরও পাঁচজন সশস্ত্র ব্যক্তি জাহাজটিতে উঠে জলদস্যুদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের ধারণা, হামলাকারীরা বান্দার বেইলার কাছাকাছি কোনও দুর্গম এলাকা থেকে যাত্রা করে ট্যাংকারটি দখল করে। তবে কীভাবে তারা জাহাজটি থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়, তা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমালিয়ার কর্তৃপক্ষ কিংবা ইউরোপীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সূত্র: বিবিসি
ডেস্ক রিপোর্ট