গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে দেওয়া নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হামাস। কায়রোতে শান্তি বোর্ডের প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদানোভের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ত্র রাখার বিষয়টি তাদের একান্তই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এর বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে হামাস প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দেন, গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই অস্ত্র তাদের জন্য বৈধ। তারা আরও সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে তাদের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দেওয়া হলে গাজায় চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একইসাথে পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার সাথে নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়ার প্রস্তাবকেও তারা অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। হামাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ তুলে নেওয়া ছাড়া কোনো ধরনের রাজনৈতিক আপস বা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়।
এদিকে হামাসের এই অনড় অবস্থানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে বলেছেন, হামাস যদি স্বেচ্ছায় অস্ত্র ত্যাগ না করে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আবারও গাজায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে স্থিতিশীল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
ডেস্ক রিপোর্ট