মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন—এমন একটি অংশের মধ্যে স্বস্তি বা আনন্দের প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রতিক্রিয়ায় জনমতের এই বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে।
ইরান–এ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলা শুরুর পর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিস্ফোরণস্থলের আশপাশে মানুষকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। কোথাও কান্না ও চিৎকারের শব্দও শোনা যায়।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে কিছু নাগরিক সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন, সম্ভাব্য প্রাণহানির শঙ্কা থাকলেও তারা বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন চান। আবার অন্য অংশ সতর্ক করে বলছেন, কেবল বিমান হামলায় ক্ষমতার কাঠামো ভাঙা সম্ভব নাও হতে পারে; বরং এতে সরকার টিকে গেলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর কঠোরতা আরও বাড়তে পারে।
হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক এ সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।