পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে না হতেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অধিকাংশ পণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মূল্য তালিকা নেই, যার সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। ইফতার ও সাহরির প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর আকাশচুম্বী মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্য ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান অস্বাভাবিক। পাইকারিতে আলু ১০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় তা ১৫ টাকা এবং ৩৫ টাকার পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে সবজি ও ফলের বাজারে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবুর হালি পৌঁছেছে ১২০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৩০ টাকা। বেগুনের দাম সেঞ্চুরি পার করে বর্তমানে ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। ফলের বাজারেও একই চিত্র; আমদানিকৃত খেজুরের শুল্ক কমলেও বাজারে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এনবিআরের তথ্যমতে ৬৫০ টাকার খেজুর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম গত ৪৮ ঘণ্টায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেবল রমজানকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রমজান এলেই দাম বাড়ানো যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেবু ছাড়া ইফতার ভাবা যায় না, অথচ এক হালি লেবু এখন ১২০ টাকা!"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের আধিপত্য এবং বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবেই পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। শুল্কছাড়ের সুবিধা সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছানো এবং কৃত্রিম সংকটের নেপথ্যে থাকা অসাধু চক্রকে শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ডেস্ক রিপোর্ট