মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ। এই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দুই দেশ সরাসরি ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'রিপাবলিক' এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো অস্পষ্ট, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ব্যাপক। হামলার পরপরই তেহরানজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায়।
এর আগে শনিবার সকালে এক জরুরি বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, তারা ইরানের ওপর ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ শুরু করেছেন। এই সামরিক পদক্ষেপ শুরু হওয়ার পরপরই তিনি পুরো ইসরায়েল জুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) বর্তমানে সম্ভাব্য যেকোনো পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলাটি ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি দমনে একটি বিশেষ কৌশলগত পদক্ষেপ।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যৌথ হামলা কেবল ইরান-ইসরায়েল নয়, বরং পুরো অঞ্চলের দেশগুলোকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। হামলার ব্যাপ্তি এবং এর ফলে পারমাণবিক বা তেল খাতের কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
(সূত্র: আল জাজিরা)
ডেস্ক রিপোর্ট