গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল সকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ জানান, আফগান সীমান্তে শুরু হওয়া সেনা অভিযান তালিবানের বিরুদ্ধে পূর্ণ যুদ্ধ। তিনি বলেন, আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে। এখন সরাসরি যুদ্ধের সময়। আফগানিস্তানের ২২ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং তালেবান কর্মকর্তা ও যোদ্ধা মিলিয়ে ২৭৪ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী। খবর বিডিনিউজের।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর যে কোনও ‘আগ্রাসী পরিকল্পনা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আছে। তালেবানকে সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দিতে তার দেশের সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ফৈজাবাদের কাছে একটি সামরিক শিবিরে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আর পাকিস্তানের নিশানায় তালেবানদের সরকারি স্থাপনা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী আফগানিস্তানে হামলা ও হতাহতের খতিয়ান জানালেন। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ২২টি স্থানে হামলায় তালেবান পক্ষে ২৭৪ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া, ৪০০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছে এবং ৮৩টি তালেবান ফাঁড়ি ধ্বংস হওয়া ছাড়াও আরও ১৭টি ফাঁড়ি দখল হয়েছে বলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান পক্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ১২ জন সেনা, আহত হয়েছে ২৭ জন এবং একজন সেনা নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি সেনা নিহতের সংখ্যা আরও বেশি (৫৫ জন) এবং কয়েকজন জীবিত ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে। আর আফগান সেনা নিহতের সংখ্যা ৮ এবং আহত ১১ বলে উল্লেখ করেছে তারা। দুইপক্ষের এই হতাহতের সংখ্যার হিসাব নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগানিস্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। সাবেক আফগান রাষ্ট্রপতি কারজাই বলেছেন, আফগানরা তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে।
আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ চীন। দেশেটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে পার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। উত্তেজনা নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সংঘাতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ডেস্ক রিপোর্ট