২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে পিলখানায় শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ২০০৯ সালের ঘটনার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনো স্বাধীন কমিশন গঠন না করে কেবল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যার রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সেই রিপোর্ট গোপন রাখা হয়েছিল তা এখন সবার কাছে স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তদন্ত রিপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় অংশগুলো দ্রুতই প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। পিলখানা ট্র্যাজেডি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর এক বড় আঘাত।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের সাথে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি লিপ্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ঘাতকদের সমর্থনে মিছিল করা, তাদের খাদ্য সরবরাহ করা এবং পালিয়ে যেতে সহায়তা করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই অপরাধে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
শহীদ সেনাদের মর্যাদার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পিলখানায় শহীদদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে বদ্ধপরিকর। ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ টিকে ‘সি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি বর্তমানে সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইফতার মাহফিলে শহীদ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট