চীন ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Airbus থেকে ১২০টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে প্রথমবারের মতো চীন সফরে গিয়ে ম্যার্ৎস বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এয়ারবাস থেকে চীনের বিমান কেনার সিদ্ধান্ত তার এই সফরের বাস্তব ফলাফলকে তুলে ধরে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
ম্যার্ৎস আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক মহামারির কারণে বন্ধ থাকা জার্মানি ও চীনের মধ্যে নিয়মিত সরকার পর্যায়ের বৈঠক শিগগিরই পুনরায় শুরু হবে। তার মতে, এই উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করবে।
বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প–এর শুল্কনীতি এবং অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির কারণে কিছুটা অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও চীন তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী। গত বছর চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে জার্মানির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে ওঠে। তবে একই সঙ্গে জার্মানি চীনকে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবেও বিবেচনা করে।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। ম্যার্ৎস বলেন, এই সফর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, তিনি জার্মানি-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এছাড়া বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি এ সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বেইজিং সফর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব সফর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি অংশ।
ডেস্ক রিপোর্ট