ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে সামরিক হামলার একটি বিশেষ পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই ‘টার্গেটেড স্ট্রাইক’ পরিচালনা করতে পারে মার্কিন বাহিনী। এমনকি এই সামরিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ-এর সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে এবং কূটনৈতিক চাপে রাখতে এই বিকল্প সামরিক কৌশলটি সাজানো হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হবে কিংবা বিশাল কোনো স্থলবাহিনী মোতায়েন ছাড়া কীভাবে সরকার পরিবর্তনের মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে অত্যন্ত নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে নেতৃত্বকে পঙ্গু করে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার মূলে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির ধারাবাহিকতায় এই নতুন পরিকল্পনাকে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ইরান যে পাল্টা কঠোর জবাব দেবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
(সূত্র: রয়টার্স)