প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা (Carbohydrate) শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শর্করা মানবদেহের প্রধান শক্তির উৎস, যা খাবার থেকে গ্রহণ করার পর গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরের কোষে শক্তি সরবরাহ করে। দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, হাঁটাচলা কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের জন্য শরীরকে যে শক্তি প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশ আসে শর্করা থেকে।
শর্করা শুধু শরীরের শক্তি জোগায় না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ মস্তিষ্কের কাজ করার জন্যও শর্করা গুরুত্বপূর্ণ।পর্যাপ্ত শর্করা না পেলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগ কমে যাওয়া, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং কাজের প্রতি অনীহা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পরিশ্রমী শ্রমজীবী মানুষ এবং নিয়মিত ব্যায়ামকারীদের জন্য পর্যাপ্ত শর্করা আরও বেশি প্রয়োজন।
অনেক সময় দ্রুত ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ শর্করা একেবারে কমিয়ে দেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শর্করার ঘাটতি হলে শরীর শক্তির জন্য বিকল্প উৎস হিসেবে চর্বি ও প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে, ফলে শরীরে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে দুর্বলতা এবং স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে শর্করা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিমাণের পাশাপাশি উৎসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সফট ড্রিংক, কেক-পেস্ট্রি, মিষ্টিজাত খাবার বা পরিশোধিত ময়দার খাবার নিয়মিত বেশি খেলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর শর্করা হিসেবে ভাত, রুটি, ডাল, আলু, শাকসবজি, ফল এবং সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শর্করা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা সহজ হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট