দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন কেন্দ্রগুলোতে চলছে গণনা। ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট প্রদানের গড় হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ, যা চূড়ান্ত গণনায় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। সপরিবারে ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে অনেক প্রবীণ ভোটার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, আর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছিল প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের অন্যরকম উন্মাদনা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। তিনি আজকের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ ও ‘মুক্তির দিন’ হিসেবে অভিহিত করে জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে (শেরপুর-৩ ব্যতীত) ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সারা দেশে মোতায়েন ছিল প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচন মনিটরিং করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এই বিশাল গণতান্ত্রিক কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
ডেস্ক রিপোর্ট