মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের কালো মেঘ সরাতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ কমাতে এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি। ইসরায়েলি প্রভাবশালী দৈনিক 'হারেৎজ'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার একটি বিশেষ প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে তুরস্ক। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে একটি টেকসই কূটনৈতিক পথ তৈরি করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি। তুরস্কের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সফল হলে, এই বিশাল পরিমাণ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে আঙ্কারায় স্থানান্তর করা হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এই ইউরেনিয়ামগুলো তুরস্কে নেওয়ার পর তা আর কখনোই ইরানে ফেরত দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটি নিশ্চিত করতে চায় তুরস্ক যে, ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো পর্যাপ্ত উপাদান আর অবশিষ্ট নেই।
এই উদ্যোগটি ২০১০ সালের তুরস্ক ও ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন তারা ইরানের ১,২০০ কেজি নিম্ন-সক্রিয় ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের মধ্যস্থতা করেছিল। যদিও সেই সময় পশ্চিমা দেশগুলোর অনাগ্রহে পরিকল্পনাটি ভেস্তে গিয়েছিল, তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের ওপর সামরিক চাপের মুখে এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে জীবন রক্ষাকারী বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। যদিও ইরান এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে আঙ্কারার এই প্রস্তাবটি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।
সূত্র: Haaretz
ডেস্ক রিপোর্ট