গাজা যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, তাদের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কোনো প্রশাসনিক কমিটি গাজা উপত্যকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
কাতারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা আবু মারজুক বলেন, অস্ত্র সমর্পণ, ধ্বংস, আত্মসমর্পণ কিংবা নিরস্ত্রীকরণ—এ ধরনের কোনো বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়নি। তার দাবি, ইসরাইলি সেনা যেসব এলাকা থেকে সরে গেছে, সেখানে হামাসের সদস্যরা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখছে।
আবু মারজুক আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইসরাইল গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের আগ্রহ দেখালেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, ফিলিস্তিনি কোনো গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
হামাস নেতার এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হন। দক্ষিণ সীমান্ত অতিক্রমের সময় আরও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪৯০ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের পর ইসরাইল ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় হামাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।