আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের অপতৎপরতা রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সংস্থার সেগুনবাগিচাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউনিট প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনের ডামাডোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা যেন কোনোভাবেই সীমান্তপথে মাদকের চালান ঢোকাতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান জোরদার করা হবে। ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সবার সব ধরণের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং সবাইকে নিজ নিজ কর্ম-এলাকায় সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক হাসান মারুফ গণমাধ্যমকে জানান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশনার আলোকেই এই বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির মতো কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ এবার মাদক সিন্ডিকেটকে দেওয়া হবে না। জেলাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি অনুমোদিত মদের দোকানগুলোতে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মাদক কিনতে না পারে। এছাড়া বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো নির্ধারিত নিয়মে চলছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন সদস্যের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনকালীন এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সুযোগে সীমান্তপথ বা অভ্যন্তরীণ রুটে মাদকের প্রবাহ ঠেকাতে ডিএনসির এই অগ্রিম সতর্কতা মূলত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সুস্থ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার একটি অংশ।